অচেনা বন্ধুটির গল্প


অচেনা বন্ধুটি শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনের মতো ছুটে চলা মানুষের ভিড়ে অনীক হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো। তার চোখে পড়ল রাস্তায় বসে থাকা এক বয়স্ক মানুষ, যার চোখে যেনো দুঃখের এক গভীর সাগর। লোকটির পরনে ছেঁড়া কাপড়, মুখে বিষণ্ণতার ছাপ। কিন্তু তার চোখে ছিলো এক অদ্ভুত আকর্ষণ। অনীক এগিয়ে গিয়ে বলল, "আপনি এখানে বসে আছেন কেন, চাচা? কিছু সাহায্য লাগবে?" লোকটি মাথা তুলে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, "সাহায্য চাই না বাবা, শুধু একটু গল্প কর। অনেকদিন হলো কারও সাথে কথা বলিনি।" অনীক অবাক হয়ে লোকটির পাশে বসে পড়ল। "আপনার গল্প শুনতে চাই। বলুন তো, আপনার জীবনে এমন কী ঘটেছে যা আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে?" লোকটি একটা ম্লান হাসি দিয়ে বলল, "গল্প বলতে গেলে অনেক বড়। তবে ছোট করে বলি। আমি একসময় খুব বড় ব্যবসায়ী ছিলাম। সবকিছু ছিল—পরিবার, বন্ধুবান্ধব। কিন্তু লোভ আর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সব হারিয়ে ফেললাম। এখন আর কেউ আমার পাশে নেই। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। জীবনের আসল শিক্ষা তো এখানেই পেলাম। মানুষকে ভালোবাসা, বিনয়ী থাকা—এই জিনিসগুলো যখন ছিল, তখনই জীবনের মানে ছিল। হারিয়ে গিয়ে সেটা বুঝতে পারলাম।" অনীকের মনে হলো, এই মানুষটির কথায় জীবনের গভীর এক সত্য লুকিয়ে আছে। সে চাচাকে জিজ্ঞেস করল, "তাহলে এখন কী করেন?" লোকটি উত্তর দিল, "আমি প্রতিদিন এখানে বসি আর মানুষের ভিড়ে কিছুক্ষণ থেকে তাদের দেখি। আমি চাই মানুষ তাদের জীবনে যা আছে তা মূল্য দিক। কারণ হারানোর পরেই আমরা এর গুরুত্ব বুঝি।" অনীক সেদিন ওই চাচার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরল, কিন্তু তার মনে একটা পরিবর্তন এসেছিল। সে অনুভব করল, জীবনের ছোট ছোট জিনিসগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত সুখ। ---

Post a Comment

0 Comments